anuradha1311

Smile! You’re at the best WordPress.com site ever

Archive for the month “অগাষ্ট, 2014”

ফ্লাইট নম্বর 116

আজকে আমার চালিকা এক নারী তার সঙ্গিনী সেও ব্যাঙ্গালোর বাসিনী
আকাশ যানের বাকী চারজন সেবিকা ও নারী –
হে জগন্মাতা, এ কি পরিহাস তোমার
আজও কিনা কন্যাভ্রুণ হত্যার ইতিহাসে আমরা এগিয়ে ।

এগিয়ে ছিলাম আমরা বহুদিন ধরেই-
গার্গী মৈত্রেয়ীর কথা মোদের সকলেরই জানা-
মহিষাসুরমর্দ্দিনীর মত দশভূজা নারী
অতি অনায়াসেই আয়ত্তে আনতে পারে পুরুষতন্ত্রকে ।

তবে কেন আজও পিছিয়ে আছে গ্রাম গঞ্জ
কেন উঠে আসেনা দীপিকা কুমারী বা মেরি কম্ রা
যারা পৃথিবীতে করেছে নাম উজ্জ্বল দেশের
বাচেন্দরী পাল বা বুলা কিম্বা আরতি সাহা রা ।

অগুণতি নারী আজ দেশের উন্নয়নে পুরুষের সাথে সমান পাল্লায় –
সুনীতা উইলিয়ামস কে ভুললে চলবে কেমন করে –
এদের দেখেও কেন চোখ খোলে না গ্রামবাসীদের-
কেন আজও জ্ঞানের আলো ঢোকে না তাদের ঘরে ?

হে নারী, জাগ্রত হও, উন্নত হও, একা এগিয়ে চলা নয় যথেষ্ট
হাত বাড়িয়ে ধর সেই ক্ষীণ হাত, টেনে তোল অন্ধকার থেকে আলোতে
অসত্যের থেকে নিয়ে চল সত্যের পথে, অজ্ঞানতা থেকে জ্ঞানের আলোয়-
মহামায়ার আশীর্বাদ ঝরে পড়ুক তোমার মাথে ॥

অনুরাধা গুপ্তা
ব্যাঙ্গালোর /দিল্লী 1/9/13

ছাত্র ও রাজনীতি

তাজা রক্ত , তাজা জীবন , সবে মাত্র প্রস্ফুটিত
চোখে আশা , মনে কত উদ্দীপনা , সামনে বিশাল পৃথিবী
নানা রংএরঞ্জিত , উজ্জ্বল বর্ণাঢ্য তুলির টানে সজ্জিত
বহু জনমের শেষে মানুষের আগমনে ধন্য যে ধরিত্রী ।

মায়ের চোখে কত আশা , ভালবাসা মিলে মিশে একাকার
ছোট্ট এক চারা গাছকে জল ও সার দিয়ে সে আজ বিশাল
নানা রংএরসবুজের পাতায় তার নীচে অনেক পাখীর বাসা
মহীরুহের মত সে আজ উন্নত , উদ্ধত, ছুঁতে চায় নভোতল ।

মানুষের সাথে মানুষের কেন এত বিভেদ, অন্যায় , অবিচার
সত্যিই ত আমরা ত সকলেই একই রক্ত মাংসের মানুষ –
তফাত থাকতে পারে আর্থিক সাচ্ছন্দে, অথবা শারীরিক আকারে
কিন্তু মানবিকতা ? সেখানে ত সবাই একই স্তরের মানুষ ।

ছাত্র ও রাজনীতি, একে অন্যের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত
কিন্তু সেই ছাত্র রাজনীতি কেন হয় উত্তাল, হিংস্র , অসহিষ্ণু
রাজনীতির অ আ ক খ এই ছাত্রাবস্থাতেই হওয়া স্বাভাবিক
কিন্তু তা কেন সমাজকে করবে মলিন আর ক্ষয়িষ্ণু ?

অনুরাধা গুপ্তা
কোলকাতা 4/4/13

আবর্জনা

গ্রাম গঞ্জে শহরে প্রান্তরে শুধুই জঞ্জাল আর আবর্জনা ,
দেশে বিদেশে এই আবর্জনার কত সুকল্পিত ব্যবহার
বিভিন্ন ধরনের বাক্সে তার শেষ পরিণতি
রূপ নেয় জৈব সার অথবা কোন পন্থা যার খুবই দরকার ।

পশু পাখী গাছ পালা মানুষ বা অন্য কোন প্রাণীর
যত রকম অশুদ্ধ বস্তু তাকে আর ধরে রাখতে পারেনা ধরিত্রী
তার সঠিক রূপায়নে প্রয়োজন কত চিন্তা বা আর্থিক সঙ্গতি
তার কি ক্ষমতা আছে এ সুবিশাল যজ্ঞে এই পৃথিবীর ।

সর্বংসহা মা, তাও অনবরত আমরা স্বার্থপরের মত
কেটে ফেলছি গাছ , নদীতে দিচ্ছি বাঁধ, ভরছি জলাশয়
মাথায় এই চিন্তা খাচ্ছে ঘুরপাক , কত তাড়াতাড়ি অথবা
কেমন করে আমরা গুছিয়ে ফেলব ভবিষ্যতের বিষয় আশয় ।

ভুলে যাই শেষ পর্যন্ত কি হবে, কেমন দাঁড়াবে পৃথিবী
বন কেটে উঠছে নগরী, গড়ছে শিল্প , কিন্তু দূষিত হচ্ছে পরিবেশ –
রাখতে হবে প্রাকৃতিক সামঞ্জস্য, আবর্জনার সঠিক পরিষেবা
তাই বলে জঞ্জালের মত গাছ ও বন্য প্রাণীও করতে হবে শেষ ?

কিম্বা ছোট ছোট কুঠুরীর মত ফ্লাটবাড়ী চারিদিকে সৌন্দর্যায়নের রং
হম্ দো হামারা দো , অন্য কোন উপায় নেই জনসংখ্যা রোকার
তাই ‘মার ঝাড়ু মার, ঝাড়ু মেরে ঝেঁটিয়ে বিদায় কর’
বলে অগুণতি বরিষ্ঠ মানুষকে আনন্দ ভুলিয়ে দেয় বাঁচার ।

কেন এতদিন বাঁচবে মানুষ , কিসের লাভ তার ?
বরং তাড়াতাড়ি অচিনপুরে পাড়ি দিলে সবাই বাঁচে
হায় বিধাতা ! কেন বোঝ না সেই অসহায় মানুষের আর্তি
পাখীর মত ডানা মেলে কেন সহজে যায়না তোমার কাছে ॥

অনুরাধা গুপ্তা
ব্যাঙ্গালোর 25/8/12

অন্যায়

সত্যিই কি অন্যায় করলে মানুষ শাস্তি পায় ?
অন্যায় কি কখনও জেনে বুঝে করে নাকি ?
নিজেকে রক্ষা করার জন্য খুনের মাপ হয় –
তবে অন্যায় কখন করে, কারও না করে কোন ক্ষতি ।

শারীরিক নির্যাতন ছোটদের করেই থাকে মা বাবা
আজকাল অবশ্য তার খুবই কঠিন শাস্তি হয় তাদের
যারা সন্তানকে শিক্ষা দেবার জন্য তাদের ওপর হাত তোলে ;
Spare the rod, spoil the child প্রোযজ্য যাদের ।

অন্যায়ের বিশ্লেষণ নানারকম – তার নানারকম রং-
সারাদিন এই জগতে কত না অন্যায় ঘটে চলেছে –
জেনে শুনেও অনেকে বীর দর্পে অন্যায় করে,
ভুলে যায় তারা , এর শাস্তি তারা শীঘ্রই পেতে চলেছে ।

এ জন্মে সে শাস্তি না ও পেতে পারে –
হয়তো অন্য কোন জন্মে বিধি জানাবে ফরমান –
কাজেই সর্বদা হতে হবে খুবই চিন্তাশীল ,
প্রতিটি পদক্ষেপ ফেলতে হবে নিয়ে আরমান ।

সেই আশা যা নিজেকে করবে চিত্তশুদ্ধি
সেই আশা যা নাকি ম্লান করে দেবে সব অন্যায় অবিচার
সেই আশা যা দেবে এগিয়ে চলার আলো
আলোর বর্তিকা সামনে রেখে অন্ধকারে ফেলে সব অনাচার ।

হে পথের দিশারী, অর্জ্জুন সারথী, আমার ধ্রূবতারা
নিমজ্জিত হয়ে তোমার প্রেমরসে যেন ডুবে যেতে পারি
সেই অমৃতসাগরে যার ঢেউ আমার হৃদয়ে তুলবে উচ্ছ্বাস
আভূমিপ্রণত হয়ে বন্দি তোমায় নত মস্তক করি ॥

অনুরাধা গুপ্তা
ব্যাঙ্গালোর 24/8/12

Post Navigation