anuradha1311

Smile! You’re at the best WordPress.com site ever

Archive for the month “ফেব্রুয়ারি, 2014”

নারী

যতই তুমি হও মেধাবী, হারিয়ে দিয়ে সব প্রতিরোধ
যতই তুমি এগিয়ে চল, মানতে নারাজ এই বিশ্ববাসী
যতই তুমি হও আগুয়ান, পিছনে ফেলে সব বাধা অভিমান
যতই তুমি হেলায় হারাও তাবড় সব বরকন্দাজ
যতই তুমি প্রকাশ কর তোমার শক্তি সে যে নয় হেলার পাত্র
যতই তুমি প্রবেশ কর সেই পুরুষশাষিত সমাজতন্ত্র
যতই তুমি অবলীলায় জয়ী হয়ে এগিয়ে চল দুর্গম পথে
যতই তুমি দুর্বার গতিতে ছিন্ন কর সমস্ত দমন শক্তি
যতই তুমি প্রমান কর তুমি কখনই হবে না দুর্বল , বা নরম সরম
যতই তুমি টপকে টপকে বারবার তাকে আছড়ে ফেল –
যতই তুমি দশের সংগে একলা তুমি যুঝতে থাক
যতই তুমি বারবার তাদের মুর্খতা প্রমান কর
তবু তারা মানবে না নারী বিনা জীবন শেষ
ধিক্কার জানাই সেই অমানুষদের যারা নারীকে করল শেষ ॥

Advertisements

অনিত্য

মেঘ বলে আমাকে দেখে শেখো – এই আছি এই নেই –
কারণ জীবনটাই এ রকম – অনিত্য, নেই কোনো ঠিকানা ।
আজ আমি এখানে কালকে যে কোথায় যাব বলতে কি কেউ পারে –
আদ্যিনাথের মেশোর মত বলা যায় না তার কোনো নিশানা ।

হাওয়া দিতে চায় পাল্লা- মেঘকে বলে দূর হটো, আমাকে দেখো-
ইচ্ছে হলে চুপচাপ তোমাকে টিমবাকটু থেকে ঘুরিয়ে আনব-
লাগবে না সময় মোটে- উড়িয়ে নিয়ে বৃষ্টি ফেলব তোমাকে ঢাকা
হা পিত্যেশ করে বসে তুমি ঘামতে থাক যদি না করি কাজ পাখার ।

এইমাত্র কি নিয়ে তোমাদের দ্বন্দ্ব হচ্ছিল ? প্রশ্ন করে জীবন –
এত কেন কোলাহল, উৎড়াই চড়াই এর মাঝে এত কেন ঝগড়া –
যখন তখন বদল করে গতিপথ রুদ্ধ করে দিল দ্বার চারধাম-
কত যে জীবন গেল আছাড়ি বিছাড়ি, স্তব্ধ হয়ে যায় – কে দেয় বাগড়া ?

দেখে শুনে অশান্ত মন হয়ে ওঠে আরো চঞ্চল , অস্থির –
নিয়তির নির্মম পরিহাস মনকে করে ভীত , সহজেই হয়ে যাই কাতর-
এই অনিত্য জীবনের যেন না করি ভরসা- শুধু তোমার চরণে যেন পাই ঠাঁই
শান্ত স্নিগ্ধ সজল চিত্ত জীবনকে করুক সুন্দর, সহজ, ছুঁয়ে তোমার পরশ পাথর ॥

অনুরাধা গুপ্তা
ব্যাঙ্গালোর 23/7/13

ফিনিক্স

জীবনের অনেক ঘাত প্রতিঘাত পেরিয়ে আজ তুমি ক্লান্ত
ক্লান্ত শারীরিক ও মানসিক ভাবে,
কিন্তু সেই ক্লান্তি কখনও তোমাকে করেনি অবশ
ফেরায়নি তোমাকে দায়িত্ব বোধ ও সংসার থেকে ;
এগিয়ে চলেছ তুমি, চরৈবেতি, সামনে যে দূর পথ, সুদূর তার গতি ।

কুসুম যেমন বৃন্তচুত হয়ে হারিয়ে ফেলে তার রং
পিতামাতার কোল ছেড়ে এসে কিন্ত হারাওনি নিজেকে ,
লাল নীল সবুজ রংএ উজ্জ্বল হয়ে দিনমণির মত আকাশ রাঙিয়েছ
মুগ্ধ করেছ তোমার ঝরনার মত হাসির আওয়াজে, প্রাণের গভীরে ।

ধীরে ধীরে তৈরী করেছ নিজেকে , পেরিয়ে এসেছ অতি বন্ধুর পথ
জীবনের টালমাটাল ঢেউএ তোমার ছোট ডিঙি কিন্ত যায়নি তলিয়ে
অতি নিঃশব্দে ধীর গতিতে এগিয়ে গিয়েছ তোমার ধ্রূব লক্ষ্য বিন্দুতে –
অনায়াসে আপন করেছ অতি অপরিচিত বাস্তবকে ।

এত কঠিন বাস্তবকে নিঃশব্দে জয় করেছ, করনি কোন আর্তনাদ
কঠিন আবরণের ভিতর নরম কোমল মন কখন ও বা অপত্য স্নেহে হয়েছে দুর্বল
তবুও মাথা উঁচু করেছ, জয় করেছ একের পর এক শৃঙ্গ
পরম পিতার সাথ তাই বুঝি করেছে তোমাকে আরো উজ্জ্বল ।

ভেঙ্গে পোড় না বন্ধু এ সুন্দর ধরিত্রির অনেক সৌন্দর্য যে দেখা বাকি
কোমর বেঁধে এগিয়ে চল সামনের দিকে, ধীরে অতি ধীরে
মহামায়ার অমলিন হাসি আর আলিঙ্গন আছে তোমার সাথে –
ঝেড়ে ফেল ক্লান্তি – এগিয়ে চল সেই অনিন্দ্য সুন্দর ভবিষ্যতের দিকে ॥

অনুরাধা গুপ্তা
ব্যাঙ্গালোর 23/7/13

সেই বাড়ী

জীবাত্মা থেকে পরমাত্মা – এই ত’ সোজা পথ
তার জন্য কত জন্ম নিতে হবে তার নেই ঠিকানা –
জানিনা এত কেন কঠিন রাস্তা হতে হবে সেই ঠিকানায় পৌঁছতে
কেন কোন সোজা পথে পাওয়া যায় না সেই নিশানায় ।

কেন মনের কোনে ভেসে ওঠে কত রকম প্রশ্নচিহ্ন
কেন এত কঠিন প্রশ্ন যার উত্তর সব কেন অজানা
কেন উত্তর জানিনা এই সব ‘কেন’র
সব কিছু কেন মনে হয় চেনা থেকেও অচেনা ।

মন হয় ভারাক্রান্ত, অন্যায় অবিচার দেখে মন হয় দুখী
নিজের অহংকে ছিন্ন করে যেন যেতে পারি তোমার অমৃতপুরীতে
এই সব ক্ষুদ্র তুচ্ছ মায়াজ্বাল ভেদ করে দেখাও পথ
হে পরমেশ্বর – দেখাও পথ, পথ দেখাও, নিয়ে চল সেই বাড়ীতে ॥

অনুরাধা গুপ্তা
ব্যাঙ্গালোর 2013

চিঠি

মা,
তোমায় দিলাম খোলা চিঠি একটু সময় দিও –
ভালো করে পড়ে নিয়ে তবে উত্তর দিও –
এই জীবন সঠিক বেঠিক কেন সবাকার এক নয় ।
তোমার সংসারে বিভেদ বিচার হওয়া ত’ উচিৎ নয় ।
সত্যি হবে সর্বজয়ী সত্যের কভু নেই বিনাশ
চোখের সামনে দেখি কেন হচ্ছে এত সর্বনাশ ?

নারীর প্রতি নির্যাতন , এত অসম্মান কেন হবে আজ
মায়ের জাত তারা, দূর্গা, কালী, সব পুরুষ ভুলেছে আজ ।
নামুক নারী যুদ্ধক্ষেত্রে, কিসের ভয়, তার কিসের ত্রাস –
ভুলেছে সবাই হায়, হায়, হায়, মহিষাসুর মর্দ্দিনীর সাজ ?
ভুলেছে সবাই নারীর জন্য ট্রয়ের যুদ্ধ, দক্ষযজ্ঞ –
অবমাননা কোরো না তাকে, গার্গী মৈত্রেয়ী সে সর্বজ্ঞ ।
আজ তাই এসেছে সময়, ফুৎকার দিয়ে শঙ্খ নিনাদ
আলোড়িত কর পাতাল মেদিনী, সর্বংসহা কর বিবাদ –
গর্জে ওঠ, নারী জাতি, শক্তির প্রাণবিন্দু তুমি আজ
তুলে নাও হাতে ঢাল তরোয়াল, সজ্জিত হও, পর রণসাজ ।
লুন্ঠিত হোক পথের ধূলায় – সব কাপুরুষ, নপুংসক যত
বাজিয়ে ভেরী, গেয়ে জয়গান – দুন্দুভি বাজুক শত শত ॥

অনুরাধা গুপ্তা
কোলকাতা 24/1/2014

ডাক পিওন

মেঘ তুমি হবে কি আমার ডাক পিওন
নিয়ে যাবে আমার চিঠির পসরা সেই অচিনপুরে ?
যার ঠিকানা নেই জানা, পথের হদিশ ও জানি না –
কিন্তু আমার চিঠির বয়ান পাকা আমার মনোমন্দিরে ।

চিঠিগুলি সব এক ঠিকানাতেই যাবে, প্রাপক একজনই
নানা রকম আর্জি, আবদারে ভরা মোর লেখনীর ভাষা –
যে ভাষাতেই লিখি না কেন, মেঘ তুমি পোঁউছে দিও ঠিক
নয়ত খুবই হতাশ হবো, শেষ হবে মোর সব রকম আশা ।

তোমার পথে কি পড়বে অনেক বাধা ? বিপত্তি নানারকম –
কিছুই পারবে না তোমাকে হারাতে কারণ তোমার গতি কনকর্ডকে হারায়
লিখে দেব চারিপাশে সব অন্যায় অবিচারের কথা
টাকা নিয়ে নয় ছয়, প্রাণ নিয়ে কত রকম নৃশংসতা মনকে কাঁদায় ।

কেন তাদের কর না বিচার, হে মহাজাঁনী, সুপ্রিম কোর্টকে হেলায় হারাও
এতসব গড়মিল, একটানে টেনে নামাও যত মিথ্যা ব্যাভিচার
ক্ষমতায় আসীন যারা, ব্যস্ত যারা ভারী করতে পকেট –
ভুলে যায় তোমার কাঠগড়ায় কেউ কোনদিন পাবে না নিস্তার ।

তাই মন আজ মেঘ তোমার সঙ্গী , ভেসে চলি তোমার সাথে
দিক্ বিদিক্ জ্ঞান শূন্য হয়ে কালো আকাশের ভেতর দিয়ে ভেসে উঠে
পৌঁছে যাই সেই অচিনপুরে, খালি করি ক্লান্ত পিওনের ব্যাগ
রেখে দিয়ে যাই সব আশা আকূতি ভালবাসা তোমার করপুটে ॥

অনুরাধা গুপ্তা
ব্যাঙালোর 1/7/2013

Post Navigation