anuradha1311

Smile! You’re at the best WordPress.com site ever

Archive for the month “ফেব্রুয়ারি, 2013”

পথের শেষ

শীতের বেলা সকালের নরম রোদ্দুরে বসে বসে ভাবি

কতটা সময় খরচ করেছি কাজে , ও কতটা অকাজে –

ভাবি মনে প্রতিটি মুহূর্ত জেন তোমার চিন্তায় হয় ব্যয় –

কিন্তু দিন শেষে এসে দেখি সেই নাম কখন, কোথায় উচ্চারিত হয়

তার হিসেব পারি না মেলাতে ।

 

হায় রে , মায়ার বদ্ধপাশে কি ভীষণ ভাবে পড়েছি জড়িয়ে

তোমার কৃপায় কেন সেই অমৃতের প্যাঁচ থেকে পারি না মুক্ত হতে ,

সব জেনে শুনেও কেন মন হয় চঞ্চল, স্বার্থপর, অহঙ্কারী –

পরমেশ্বর, শক্তি দাও যেন মানুষের কাজে করি সময় উৎসর্গ ।

 

মানুষ মানুষের জন্য , তার প্রতি সহানুভূতি ও ভালবাসা

এ টুকুও কেন করতে পারি না – তোমার চিন্তায় কি মন ব্যস্ত

তবে তার সঙ্গে এই চিন্তা বা অভ্যাস জপধ্যানের মত

করতে হবে অভ্যাস ।  করতে হবে মনকে দৃঢ় , অন্যায় কে

প্রতিরোধ করে এগিয়ে যেতে হবে সেই সাগরপারে

যেখানে অবিশ্রান্ত ঢেউ বাধা হয়ে আটকাবে আমার পথ,

তবুও ধীর পদক্ষেপে, দৃপ্ত ভঙ্গিতে করতে হবে পার

এগিয়ে যেতে হবে সাগরের ওপারে , যেথায় আছে নাকি

সেই অমৃতলোকের ঠিকানা , আলোয় আলোকময় ।

 

অনুরাধা গুপ্তা

কলকাতা  ৭/১২/১২

সহপাঠী

চার দশকের কিছু বেশী দিনের ছাড়াছাড়ি

অবাক লাগে ভেবে, যাদের সাথে ছিল নিত্য যাওয়া আসা

কালের নিয়মে সবাই গেল ধূমকেতুর মত ছড়িয়ে ছিটিয়ে –

তাই এত দিন পরে তাদের মুখ মনে পড়ে ভাসা ভাসা ।

 

ভাসতে ভাসতে কে কোথায় হারিয়ে গিয়েছি অজানা থেকে যায়

একটি দুটি প্রাণ রাখে যোগাযোগ কোন বিধাতার কৃপায়,

হারিয়ে যায় সেই তারুণ্য , সংসারের জাঁতাকলে কপালে পড়ে ভাঁজ –

ডুবুরির মত সাঁতরে খুঁজে পায় সেই মানিক ডুবে সাগরতলায় ।

 

শারীরিক পরিবর্তনের সাথে সাথে মনের বদল ,

এত বছর পরে হঠাৎ ছলকে ওঠে সেই যৌবনের উষ্ণতা –

বন্ধু বা সহপাঠীর প্রতি এক প্রচ্ছন্ন আশকারা ,

ধীরে ধীরে সরিয়ে দেয় জমে থাকা ধুলোর দৈন্যতা ।

 

অদেখা কে ফিরে দেখার জন্য আবার হয় মন চঞ্চল ,

বর্তমানের গুরুগম্ভীর চশমার ফাঁক দিয়ে ঝিলিক মারে সেই মুখ –

হঠাৎ এক দখনে বাতাস ঢুকে পড়ে এই মেঘ থমথমে আকাশে –

আনন্দে নেচে ওঠে মন ফিরে পেয়ে সেই সুখ ।

 

অনুরাধা গুপ্তা

কলকাতা   ১৮/২/১৩

বদল

বার বার করে বদল করে  এখন আমি ক্লান্ত

প্রারব্ধ কর্ম শেষ হলেই নতুন কর্মের সন্ধান

সুচিন্তিত কাজ অথবা ন্যায়জনিত কাজ

সব যদি পূর্বনির্ধারিত , মিছে মায়ার বন্ধন ।

 

দিনের পরে রাত , রাতের পরে দিন

প্রকৃতির এ অমোঘ নিয়মে ঘুরে চলে কালের চাকা

কি করে যে নিস্তার  পাব  এ  জাঁতাকল  থেকে

বিধির বিধান ঠিক করে দেয় কপালের লেখা ।

 

আমি নাকি অবিনশ্বর , লয় ক্ষয় নেই মোর

তবে আমি কেন নশ্বর দেহ মাঝে মুখ লুকাই

পুরুষকার আর ললাটের লিপির মাঝে

জনম জনম চলে এক নিরবিচ্ছিন্ন  লড়াই ।

 

হে বিধাতা , কোটি কোটি বছর ধরে বয়ে চলে

তোমার এই ভাঙ্গাগড়ার খেলা

এই খেলার খেলনা হয়ে বহুরূপীর মত

রং পালটাই , শরীর পালটাই , করি হেলা ফেলা ।

 

যে দিকে তাকাই শুধু একটা রংই চোখে পড়ে

লাল রং – কখনও হালকা কখনও বা অতি গাঢ়

ভোর আকাশে যে লালের খেলা দেখি সে অতি মনোরম –

কিন্তু বেলা বাড়লেই সেই লাল হয় অতি রুঢ় ।

 

সবুজের নানা রকমের বিন্যাস ছেয়ে আছে গাছে গাছে

নরম কার্পেটের মত দূর্বা ঘাসের আস্তরণে ঢাকি

কচি কলাপাতায় ঈষৎ হলুদের ছোঁয়া মন করে রঙিন

বৃষ্টিস্নাত পৃথিবী নিদাঘের পরে স্নিগ্ধ হয় মাটী  মাখি ।

 

হলুদের রং গাঁদা বা চন্দ্রমল্লিকায় হাসায় ধরণী

সবুজ ঘাসের পরে খেলা করে কলকে ফুলের রেণু

আর সাদা রং এর ঝিলিক মনে জাগায় হৃতস্পন্দন

ভাসাই তরণী ফুলের সাজি আর নিয়ে কলাপাতার বেণু ।

 

অনুরাধা গুপ্তা

কলকাতা  ১১/২/১৩

আওয়াজ

সকাল সাড়ে ন’টা ।

আধুনিকতা ও বিজ্ঞানের ধ্বজা উড়িয়ে নিমেষের মধ্যে উধাও ।

সাড়ে নটার মেট্রো ।

পার্ক স্ট্রীটের সিঁড়ি বেয়ে উঠে ছুটছে নারী , পুরুষ ।

সবাই মুহুর্মুহু ঘড়ি দেখছে ও নিজেদের গতি বাড়াচ্ছে

কারো মুখে কথা নেই , এক অখণ্ড নিরবতা বিরাজমান ।

এত লোক অথচ সিঁড়িতে কোন কোলাহল নেই –

অবাক কাণ্ড ! কেউ কাউকে চেনে না – একই শহরে থেকে সবাই অচেনা ।

এই অবিচ্ছিন্ন মৌনতা আরো প্রকট হয় জুতোর আওয়াজে !

সিঁড়িতে আওয়াজ তোলে ঘোড়ার খুড়ের মত খট খট খট খট – মহিলাদের হাই হিল

ঠিক একই সঙ্গে পুরুষদের জুতোর রবার সোলের ঘ্যাসঘ্যাসে আওয়াজ ।

কারো বা একটু ঢিলে চটি জানান দেয় ফট ফট শব্দ –

কান পাতলেই শোনা যায় সেই নিঃশব্দ সিঁড়িতে নানা জুতোর আওয়াজের

শব্দ – সৃষ্টি হয় এক আওয়াজের অর্কেস্ট্রা ।

চৈত্রমাসে গড়িয়াহাটেও ফুটপাতে সৃষ্টি হয় সেলের অর্কেস্ট্রা ।

বিভিন্ন সুরে , ছন্দের বৈচিত্র্যে , গলার গাম্ভীর্যের রকমফেরে সৃষ্টি হয়

এক অদ্ভূত কান ঝালাপালা করা  অর্কেস্ট্রা ।

জলতরঙ্গের মত বিভিন্ন সুরে সৃষ্টি হয় বিভিন্ন রকমের অর্কেস্ট্রা ।

মানুষের সৃষ্টি এই আওয়াজের অর্কেস্ট্রার জন্য দরকার নেই

কোন সঙ্গীত শিক্ষা

পৃথিবীর নিজের অর্কেস্ট্রা যাতে ভাগ নেয় কোকিলের কুহুতান ,

বাতাসের মন্দ মধুর আওয়াজ , কিম্বা , ঝরণার ঝরঝর , বা

শীতের শেষের ঝরা পাতার গান –

তারা সবাই ঢাকা পড়ে যায়

এই যান্ত্রিক অর্কেস্ট্রার দাপটে ।

 

অনুরাধা গুপ্তা

১৩/৪/৯৯

Post Navigation