anuradha1311

Smile! You’re at the best WordPress.com site ever

Archive for the month “জানুয়ারি, 2013”

যজ্ঞ

বিরাট এক যজ্ঞ শেষ – এত দিনের প্রতীক্ষা, পরিশ্রম, প্রত্যাশা –
নিমেষে বুঝি বা শেষ হয়ে গেল – হৃদয়ের হৃৎপিণ্ড চলার গতি
“আসার” আশা সহসা পালটে গেল “যাওয়ার” মাঝে
টুনি বালবের আলো নিমজ্জিত হল বা বুঝি হ্যালোজেনের আলোয় ।

কি এক হাহাকার হৃদয় জুড়ে – আনন্দের পরিসমাপ্তি
অতি অল্প সময়ের জন্য দর্শন হল মায়ের
লোকজন ব্যস্ততা – সবাই চলেছে নিজেদের মনের গতিতে
তবুও নেই কেন সোরগোল – খালি মন্ত্রের উচ্চারণ মাইকের মাঝে ।

এত জনতা, তবুও নেই সেই গোলযোগ, হৈচৈ
পুণ্যের সন্ধানে এসেছে বহু পুণ্যঅর্থী- মায়ের চরণে
মায়ের ভজন হৃদয় নিংড়ান সুর ও তালের অনুরণন
অনন্ত জলের ধারা চোখের বাইরে এসে ভেজায় কাপড় ।

দুর্যোগের ঘনঘটা প্রতিনিয়ত চমক লাগায় মনের মন্দিরে –
শান্ত সমাহিত মায়ের মূর্তি জাগিয়ে তোলে আশার বাণী –
ক্ষণেকের তরে সামান্য হলেও শান্তির পারাবারে ডুবে যায় মন
প্রবচন আর সৎসঙ্গ ভজনে মন ডুবে থাকে অনুক্ষণ ।

অনুরাধা গুপ্তা
কোলকাতা
২০/১/১৩

বিচার

মা, তুমি ত’ দয়াময়ী, করুণাময়ী, হৃদয়ে তোমার ভালোবাসার আকর
তবে মা কেমন করে সহ্য কর এই তুমুল বিভেদ বিভাজন ?
এই শীতের রাতে ঘরে হিটার জ্বালিয়ে আরামে নিদ্রা যায় যারা
সারাদিনের ক্লান্তিশেষে ডাণলোপীলোয় শুতে পায় তারা ?

গরম লেপের মুড়িতে ঢেকে আপাদমস্তক স্বাদ পায় তারা তাপের
একের পরে দুয়ের প্রলেপ দিয়ে ঢুকে যায় তারা লেপে ।
আর পরিশ্রম সে তো মা সকলেই করে, বিদ্যা বুদ্ধি নির্বিশেষে –
কিন্তু হালে কেন পানি পায় না গাঁয়ে গঞ্জে কচি বুড়ো অনায়াসে ?

করে না কি তারা পরিশ্রম ? শীতের সকালে কাদার মাঝে ডুবে যায় পা দুটি –
শহরের তরে পৌঁছাতে হবে আলু , সিম, কপি আর মটরশুঁটী ।
গরম ঘরে ধূমায়িত চায়ের টেবিলে আনবে যে রোশনাই-
ময়দা ভাঁজে লুকোনো মটর, দম আলু আর কত ঠিকানা তার নাই ।

যারা করে এই জোগানের কাজ, চালায় ভ্যান রিক্সা সাত সকালে
মাথায় কারো নাই যে টুপি, কিম্বা মাফলার, শীত তারা ঠেকাবে কিসে ?
মা, তুমিই কর বিচার, অন্ন বস্ত্র জোগাও এই অভাগাদের পাতে
বুদ্ধি দাও, শান্তি দাও, পায় যেন তারা উষ্ণতার ছোঁয়া বিছানায় শেষ রাতে ।

অনুরাধা গুপ্তা
কোলকাতা
১১/১/১৩

নির্ভয়

কিসের ভয় ? কাকে ভয় ? কেনই বা ভয় পাব ?
এসেছি ভারতে, নারী হয়ে , সহ্য করতে শুধু দুখ ?
এই দেশে জন্মে বুঝি লজ্জার শেষ নেই –
হে মা ধরনী দ্বিধা কেন আর লজ্জায় ঢাকি মুখ ।

মা, তুমি কি করে হও সর্বংসহা, অসুর দলনী, অভয়দাত্রী ?
আজ নারী তোমার শক্তিতে জেগে উঠুক, জাগুক ধরনী ।
চৌচির হয়ে ফেটে যাক ধরিত্রী, মত্ত সাগরের মত আসুক সুনামী
দেখুক পুরুষ অবলা কারে কয়, প্রাণে জাগুক তার ভয় ।

নারীকে যে করে অবহেলা, অসম্মান, পদদলিত
মা, তোমার আদেশে হোক তার চিত্ত ক্ষত বিক্ষত
মাতৃ জঠরেই হোক সেই ভ্রুণের বিনাশ, ক্ষমতা আছে কি
সেই ভ্রুণের, যুঝতে পারে কি সে তার মায়ের সনে ?

তবে, হে পুরুষ, কোথায় গেল তব পৌরুষ ?
যুগ যুগ ধরে বীর পূজিত হয় দেশে দেশে ?
বাহুবলের শক্তির দ্বারা নিপীড়িত হয় যত অন্যায় অবিচার
হায় ! কি করুণ সমাপন, তব বীর্যের , তব আত্মতুষ্টির ?

-অনুরাধা গুপ্তা
২/১/১৩

Post Navigation