anuradha1311

Smile! You’re at the best WordPress.com site ever

Archive for the month “অক্টোবর, 2012”

ফিশ ফ্রাই

নীল আকাশের রং তখন বুঝি কালোই থাকে
পাখীদের কলকাকলী তখন ও শুরু হয় না
দ্রুতপায়ে গায়ে গামছাটা জড়িয়ে নেয় খাঁদু,
নাঃ , হাড়কাঁপানো শীত এই কানিতে শানায় না ।

দূর থেকে একে একে ডিঙিগুলি আসে
হৈ হৈ করে লাফিয়ে নামে সব মাল্লার দল ,
ঘুমন্ত পৃথিবীর একটি কোণে হঠাৎ জেগে ওঠে
কোলাহল, গুঞ্জন – তোলপাড় লেগে যায় ।

দেখতে দেখতে আকাশটা হয়ে ওঠে লালে লাল ,
তার চেয়ে বেশী ঝিলিক দেয় জালে ধরা মাছগুলি
রূপালী, ছাই ছাই, মেঘের রংএর মত
বিদ্যুৎ খেলে যায় সব চোখে মুখে ।

ছুটে যায় খাঁদু, উদ্ভ্রান্ত চোখে তাকায় আশে পাশে
আড়তদারদের মাথায় তখন অঙ্কের জোয়ার –
আজ কি বিয়ের লগন ? কিম্বা অন্য কোন পরব ?
কত বেশী লাভ ? কত দামে ছাড়া যায় ?

কি চাই, বাবুরা ? সবই জ্যান্ত, এখন ও লাফায়
কেমন করে কাটতে হবে শুধু বলেই খালাস –
পৌঁছে দেবে বাড়ীতে খাঁদু – যার যেমন খুশী
বড় বড় পেটি, গাদা , কিম্বা ফ্রাই এর ফিলে ?

ঠাণ্ডায় হাতগুলি জমে যায়, কেঁপে ওঠে বুক
কাঁপুনি ছড়িয়ে পড়ে ঠাণ্ডা শরীরে
একটু যদি হাত দুটো সেঁকত খাঁদু
হয়ত আরো মিহি হ’ত হাতের জাদু !

সারা গায়ে রূপোলী আঁশের ছোঁয়া
রক্তাক্ত জামা ও গায়ের গামছাখানি
এক ভাঁড় চা দিয়ে যায় দোকানি –
আঃ , রোদে বসে আরাম করে খায় খাঁদু ।

জুড়িয়ে যায় শরীর – ক্লান্তির হয় শেষ
রোমে রোমে ছড়িয়ে পড়ে অসীম উষ্ণতা
ধীরে ধীরে ভাবে খাঁদু – ফ্রাইগুলি খাবার মজা
বাবুদের শরীরে কি দিতে পারে এই প্রসন্নতা ?

অনুরাধা গুপ্তা
রূপনারায়নপুর
১৯৯৭ সালে কোন দুপুরে

Advertisements

চলচ্চিত্র

দূরে ইতস্তত বিক্ষিপ্ত কয়লার বালিয়ারী
হলুদ ও সবুজের সংমিশ্রণে মাথা উঁচু করা বৃক্ষরাজি
দুটি টিলার মাঝে গ্রাম্য পথে এঁকে বেঁকে চলে গরবিণী
মাথায় তার মহুয়ার ঝুড়ি, কাঁখে শুকনো কাঠ ।

বিশাল পৃথিবীর একপ্রান্তে ছোট দীপখানি জ্বেলে
সে প্রণাম জানায় দূরের – বহু দূরের – নিভন্ত সূর্যকে
যার ম্লান আলোকে মোহময়ী হয়ে ওঠে ধরণী,
বেজে ওঠে শাঁখের আওয়াজের চেয়েও তীক্ষ্ণ পাঁচটার ভোঁ ।

চলচ্চিত্রের দৃশ্যের মত একে একে ভেসে ওঠে দৃশ্যাবলী
গোনা গুনতি বাবুরা – গুটি কয়েক বাড়ী – সবই চেনা ।
ধীরে ধীরে বাড়ে বসতি – মানুষের কোলাহলে নিস্তেজ হয় পাখীর কাকলী
কুসুমকানালীর জানালা থেকে ক্রমে অদৃশ্য হয় কারখানার চিমনী ।

মোহন আর শ্যামলীর আওয়াজ ঢাকা পড়ে যায়
সম্রাট, মোনালিসা, আর সুপারের ব্যস্ততায় ;
এক নম্বরের সামনে উদ্দাম মিনিগুলোর ব্যস্ততা
তাড়িয়ে ফেরে চারিদিকের নিস্তব্ধতা ।

মার্কেট সেন্টার তার নিয়ন আর হ্যালোজেনের আলোয়
ভুলিয়ে দেয় হ্যারিকেন-জ্বালা শণিমঙ্গলের মিহিজামের হাটকে ।
সবুজের ধূ ধূ মাঠে দানবের মত দাপিয়ে বেড়ায় ইট, কাঠ, ইমারত
পেট্রোলের গন্ধে চাপা পড়ে যায় মনমাতানো লেবুফুলের মিষ্টি সুবাস ।

পায়ে চলা মেঠো পথ এসে মেশে কালো পিচের রাস্তায়
বাঁধভাঙ্গা বালখিল্যের দল বই হাতে ছোটে রাস্তায়
বৈশাখের তপ্ত দুপুরে ক্লান্ত দেহে ৬ নম্বরের বিরাট গাছটার নিচে
পা এলিয়ে দেয় গরবিনী –
কি দ্রুত বদলে যাচ্ছে দৃশ্যগুলি ;
নীল আকাশের দিকে মাথা উঁচু করে অ্যান্টেনাগুলি ।
হারিয়ে গেছে সেই লু ‘এর দুপুর
হাড় কাঁপানো সেই পৌষের রাত –
তবে কি রূপনারায়ণপুরেও লেগেছে যান্ত্রিকতার ছোঁয়া । ।

অনুরাধা গুপ্তা
রূপনারায়ণপুর
১৯৯৭ এর আগে কোন একদিন দুপুরে

আকাশে ও মেঘে

আকাশের বুক চিড়ে রূপোলী  উড়ান মেঘের মধ্যে হারাল

শুরু হল তার লুকোচুরি খেলা

কত রকমের পরিধি ও আকার নিয়ে ভেসে বেড়ায় তারা

তার মাঝে চড়াই উৎরাই পার হয় মোর ভেলা ।

 

হঠাৎ চোখে পড়ে নিচে বহুদূরে সবুজ ও খয়েরির মাঠ ও বসতি 

তার কিছু ওপরে ভেসে বেড়াচ্ছে মেঘেরা

আর ঠিক তাদের নিচে তাদের আকারে ছায়া পড়েছে মাটীতে

অদ্ভূত এক রঙের ফারাক দেখতে পাই আমরা ।

 

দেখতে দেখতে আলো আঁধারির খেলা ছেড়ে

উঠে গেলাম মেঘের জগতে – চারিদিকে সাদা সাদা মেঘ

কিছু কিছু ভেসে বেড়াচ্ছে হালকা  তুলোর মত

তবে সবাই খুবই সাদা, মুস্কিল করা ভেদাভেদ ।

 

ভাবি মনে কিরকম হবে – যদি সত্যি আমি পারতাম

এক ময়ূরপঙ্খীতে ভেসে বেড়াতে তাদের মাঝে

গায়ে তারা কেমন লাগত, ধরতে যদি পারতাম হাত দিয়ে

মুঠো মুঠো সাদা মেঘ, বরফ কুচির মতো হাতের মাঝে ?

 

ঈশ্বরের কি অপরূপ সৃষ্টি, মন ছুটে চলে মেঘের সাথে

নীল, গাঢ় নীল, স্বচ্ছ নীল আকাশ পেরিয়ে

কিছু সোনালী মেঘের মাঝে সূর্যির ছোঁয়া

পারলে ধরে নিতাম দু’হাত বাড়িয়ে  ।

                                অনুরাধা গুপ্তা

                                দিল্লী  ১১/৯/১২

Post Navigation