anuradha1311

Smile! You’re at the best WordPress.com site ever

পদতলে

আচ্ছা মা, তুমিই বল আমার সারা দিন কি করা উচিত
গৃহকর্ম, সে ত’ সব মানুষই করে অল্প বিস্তর -
সার্থক করতে এই জনম এর চেয়ে বেশী করা উচিত
নয়ত ঘানি টেনে যেতেই হবে জন্মজন্মান্তর ।

মা দেখাও পথ বলে দাও রাস্তা সুন্দর ছায়া সুনিবিড়
রংবাহারি ফুলের শোভায় হোক সে পথ অতীব সুন্দর
জীবনে মসৃণ পথ পাব না সেটা আমি ভালই জানি
দাও সেই ধৈর্য, বন্ধুর পথ হোক সুগম, মনে ভাবি নিরন্তর ।

মনকে বেঁধে শক্ত হাতে অহর্নিশি করি সদ্ভাবনা, সৎসঙ্গ
আপন থেকে পরের মাঝে করি যেন নিজেকে সমর্পন-
প্রেমের সাগরে ডুব দিয়ে অনন্তর জপি তোমার নাম
রূপান্তর আসুক আমার মনে দেহে, অবগাহন করি, করি অর্পন ।

অর্পন করি সেই পাদপদ্মে ধরিত্রী যার পদাধীন-
অর্পন করি সেই পাদপদ্মে নিজেকে ভুলি, করি জগৎ রঙিন -
অর্পন করি সেই পাদপদ্মে বিশ্ব যেই পদতলে করে চুম্বন -
অর্পন করি সেই পাদপদ্মে দুই বাহুডোরে বদ্ধ সেই আলিঙ্গন ॥

অনুরাধা গুপ্তা
ব্যাঙ্গালোর 29/3/14

মন

আয়নায় দেখে চেহারা ভাবি মনে আর কতদিন -
আরো কতদিন আমাকে এই জগতে করতে হবে বাস -
রূপোলী রংএর ছোঁয়া দেখা যায় অবিন্যস্ত চুলে যত্রতত্র
কিন্তু ভাবি মনে মনে মনটা ত’ এখন নরম কচি ঘাস ।

মন বলে চাই, কি চাই, কেন চাই, কতটা চাই -
এই চাহিদার হিসাব মেলায় কে নেই তার ঠিকানা
নেই শেষ- চেয়েই চলেছি, এটা দাও, ওটা দাও -
কেন যে ভুলেও ডুব দিতে চাই না- মন বলে জানিনা ।

বন্ধ কর এই দাও দাও- উলটে মনকে বলি আমার দেবার পালা
দুনিয়া অনিত্য- কিছুই থাকবে না আমার তাই বিলিয়ে দাও-
নদীর স্রোতের মত বয়ে চলুক মন- ত্যাগ কর সব বাসনা
শেষ পাড়ানির কড়ি যেন থাকে সাথে – শুধু তাই চাও ।

আনন্দে থাকুক মন- হিসাব কোরো না দেয়া নেয়ার
আনন্দে থাকুক মন- চোখের সামনে লক্ষ্য থাকুক স্থির
আনন্দে থাকুক মন- সমব্যথী থেকো সকলের প্রতি
আনন্দে থাকুক মন- সমাহিত হও চঞ্চল, অস্থির ॥

অনুরাধা গুপ্তা
ব্যাঙ্গালোর 28/3/14

ইচ্ছে

কত রকম ইচ্ছে যে মনের মধ্যে ঘুরে বেড়ায় -
রাতের শেষ আর ভোরের দেখা সব থেকে জরুরি হয়-
পুবের আলো আর পাতার নাচন মনকে করে দারুণ খুশী
সাঁঝের তারা দেখতে চাওয়া, মেঘের ভেলা খুব কি বেশী ?
সোজা সাপ্টা ইচ্ছেগুলো জমিয়ে ওঠে আনাচ কানাচ
ভৈরবী আর দরবারী দেয় মনকে নাড়ায় যতই নাচাক
নাচেন তালে বিরজু রাজা সাথে অভিনয় আর নাচ
রবিশঙ্করের তারের ঝালা, বাহার কিম্বা মাঝ খাম্বাজ !
আরো কত ইচ্ছা আছে গভীর হয়ে মনের ভিতর-
দেশ বিদেশে পাড়ি দিয়ে দেখি যেন সব ফন্দি ফোকর-
নায়াগ্রার জলপ্রপাত আর যদি পারি ব্যবিলনের উদ্যানটা
এস্কিমোদের কায়াকগুলো, পেঙ্গুইনের বরফ চাটা -
কিন্তু কেন যতই দেখি, যতই শুনি, বারবার ভাসে একটা ছবি
সাদা শাড়ী- আনন্দময়- একই রকম মায়ের ছবি -
মা তোমার বুকে মাথা গুঁজে বাকি জীবন বয়ে যেন যায় -
ঝরে পড়ে আশীষ তোমার অশ্রুধারায় বুক ভেসে যায়-
মা তোমার হাতের স্নিগ্ধ পরশ, ইচ্ছেময়ী ইচ্ছা তোমার
আমার ইচ্ছে হয় যেন তা, জনম জনম ইচ্ছে আমার ॥

অনুরাধা গুপ্তা
ব্যাঙ্গালোর 27/3/14

মেঘ তরণী

এবারে নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা দেখতে পাচ্ছি না-
বিশাল থালার মত বৃহদাকার সূয্যিমামা তাকে করেছে গ্রাস -
সবুজের রংএর বাহারে দেখা দিয়েছে মাটীর ছোঁয়ার রং
শুকিয়ে যাচ্ছে তারা, রংবাহারি ফুলেদের মাঝে দেখা দিয়েছে ত্রাস !

কিসের ত্রাস- সূয্যিমামার রথের চাকা দিচ্ছে মেদিনীকে কাঁপিয়ে
হাওয়া বদলের মরশুম- মরশুমি ফুলেরাও নত মস্তকে করছে আবাহন -
দিবাকর না প্রভাকর – তার প্রভায় পৃথিবী চকিত, ভয়ে কম্পিত
মেঘেরা দিয়েছে পিঠটান – চারিদিকে সন্ত্রাস- আসছে সে আসছে ।

আসছে গ্রীষ্ম – তারপরেই আসবে বর্ষা- কালের অমোঘ নিয়ম
নেই কোন বেনিয়মের কারবার – আমরা মানুষেরাই যত বেহিসাবী
কেনযে এই নিয়মের দুনিয়ায় আমরাই যত নষ্টের গোড়া
বিজ্ঞানের উন্নতি করে প্রাকৃতিক নিয়মে হয়ে উঠছি অনাচারী ।

মেঘ গরমের দাপট কমাও, স্নিগ্ধ কর ধরণী, সবুজ কর মন -
লালের আগুন নিভিয়ে দিয়ে নীল আর সবুজে সাজাও ধরণী -
গানে গানে ভরিয়ে তোলো দিক – দশ দিক হয়ে উঠুক মধুময়
হৃদয়ে ভরে বিধাতার আশীষ, মেঘ হবে কি তুমি আমার তরণী ?

অনুরাধা গুপ্তা
ব্যাঙ্গালোর 27/3/14

ট্রেন

এবার মনটাকে করব আমার রাজধানী এক্সপ্রেস বা দুরন্ত ট্রেন
একবার টিকিট কেটে উঠে বসব পছন্দমত কামরাতে
সঙ্গী সাথী কাউকেই হয়ত পাব না মনপসন্দ -
কোঈ বাত নেই – তুমি থেকো সাথে সর্বদা দিনে রাতে ।

সারা রাস্তা আমরা কতরকম কথা বলব ভাবতেই শিহরিত
এক আনন্দস্রোত নেমে যাচ্ছে শিড়দাঁড়ার মধ্যে দিয়ে -
চমকে চমকে উঠি ভেবে তোমার মহিমা, করুণা, ভালোবাসার কথা -
তোমার ছবি দেখে চলেছি দুনয়ন দিয়ে, অন্তর দিয়ে, মনপ্রাণ দিয়ে ।

এই যাত্রার শেষ হবে তোমার পদপ্রান্তে এসে -
মাঝে মাঝেই কত বিপদ টিকিটচেকারের বেশে আসবে পরীক্ষা করতে
চাইবে দেখতে টিকিটখানি – সে ত’ কবেই তোমাকে দিয়ে রেখেছি
তুমি বারবার আমায় দেবে হাত বাড়িয়ে – কেউ পারবেনা কিছু করতে ।

সব টিকিটচেকার বিপদ হয়ে যতই করুক আমায় হেনস্থা
তোমার শক্তহাত দুটোহাত দিয়ে জড়িয়ে রাখব বুকে -
অমৃতের সন্ধানে মন নিয়ে চল আমায় সেই শান্তির আবাসে
চিরশান্তির আবাসে ঠিক হবে ঠাঁই, তুমি যে নেবেই আমাকে ॥

অনুরাধা গুপ্তা
ব্যাঙ্গালোর 28/3/14

ফাগুণ

রান্নাঘরের জানলা দিয়ে চোখে পড়ে জ্যাকারাণ্ডার মেলা
সবুজ অন্যান্য ঘন গাছের বনানী- আর গোলাপি বেগুনী খেলা
মিশে গেছে বহুদূর পর্যন্ত সবুজের রেশ পেছনে কংক্রীটের বাহার
চারিপাশে নেই কোলাহল, কানে ভেসে আসে মিঞা কি মল্লার ।

প্রকৃতিতে লেগেছে রং, হোরীর রং, লাল হলুদ বেগুনীর ছোঁয়া
বসন্তের মধুর বাতাস ব্যজন করে মনে রাঙায় রংবাহারি দোহা
নানা সুরে ধ্বনিত হয় মন, শান্ত হয় অশান্ত মনের বেদনা
ফাগুনের রংএর খেলা এসে মিশে সৃষ্টি করে গভীর উন্মাদনা ।

এই সুন্দর রংএর পৃথিবীতে হোক সকলের মন রঙে রঙিন
বিধাতার প্রদত্ত এই শান্তির শেষ হোক সুন্দর, সতেজ নবীন
মনের কালিমা যাক ধুয়ে, পুণ্য জলে স্নাত হোক এই ধরিত্রী
প্রেম ও প্রীতির ডোরে বেঁধে থাক, আশীর্বাদ থাক মা জগদ্ধাত্রী ॥

অনুরাধা গুপ্তা
ব্যাঙ্গালোর 17/3/14
হোলি

নেতা

মিথ্যে কথা – মিথ্যা প্রচার – ভোটে দাঁড়ালে করতে হবে ?
জনগণকে কথারমালায় বাক্য জ্বালায় জ্বলতে হবে ?
গণতন্ত্র শক্তিশালী জনগণকে দেয় অসীম সাহস -
ভোট দিয়ে তুমি করতে পার উথাল পাথাল, আবেগ পরশ ?
একবার যদি কোনক্রমে বসতে পারি সেই সিংহাসনে -
নেই পরোয়া, সাথে সাথে জুটবে অনেক ঠুনকো স্বজন ।
যতরকম ভুলভ্রান্তি, মিথ্যে খবর রটবে অনেক -
কেন যেন কোনমতেই কব্জা করা যায় না ক্ষণেক -
ভাবি মনে আসছেবারে ঠিক দাঁড়াব ভোটের রণে
আগে থেকেই জেনে নেব কিসের অভাব ফাঁক ফোকরে ।
কেমন করে জানব সেটা, করতে হবে এক নতুন নিয়ম
ইংরাজিতে সিষ্টেম আর দরকার কিছু কেজো মানুষ
লোক ঠকানো, মা ঠকানো, বন্ধ কর ফুলিয়ে ফানুষ
চিন্তা কর গভীর মনে, ঠাণ্ডা করে সেই জোয়ার ভাঁটা
নেতার আগে মানুষ তুমি, সরিয়ে রেখে সকল কাঁটা
পকেট ভারী বন্ধ করে, উজাড় করে দাও লোকেরে
এমন সুযোগ কজনা পায়, সেবার সুযোগ দেশের দশের ?
তাই এগিয়ে চলে সকাল বিকাল খুঁজে বেড়াও সেই নেতাকে -
শান্তি পাবে, স্বস্তি পাবে, লুটিয়ে মাথা মায়ের বুকে ॥

অনুরাধা গুপ্তা
ব্যাঙ্গালোর 13/3/14

এগিয়ে চলো

দিনগত পাপক্ষয় – কথাটার মানে কি বুঝিনি আগে
একমাত্র পুণ্য করলেই সত্যি সত্যি হবে পাপক্ষয় -
যদি ভেবে থাকি গতানুগতিক জীবন কাটালেই হবে পাপের বিনাশ
ভুল ভেবেছি , পুণ্য কাজ করতে পারলেই হবে জয়, হবে জয় ।

হে বীর, হে নির্ভয়, এগিয়ে চলো সামনে রেখে পাখির চোখ -
হেলায় হারাও সব যাতনা, উর্দ্ধে ওঠার চেষ্টা করো প্রতিনিয়ত
জীবনের যাঁতাকল থেকে বেরিয়ে ঝাঁপিয়ে পড় সেই রণক্ষেত্রে
যেখানে তুচ্ছ সব ব্যথা বেদনা – অবিচল থাক নিজের লক্ষে অনবরত ।

সার্থক হোক জনম মাগো, নিজের পরিধি মেপে ফেলি পদক্ষেপ
সার্থক হোক জনম মাগো, সদা এগিয়ে যেন উঠাই ভূলুণ্ঠিত-
সার্থক হোক জনম মাগো, প্রতি দণ্ড পল অন্তর থেকে যেন বাইরে আসি
সার্থক হোক জনম মাগো, অপরের তরে বাঁচি, হয়ে অকুণ্ঠিত ।

মঙ্গলময়, শক্ত করো হাত, তার চেয়ে বেশী শক্ত কর মন
কঠিন হাতে এগিয়ে চলো, পরোয়া কোরো না কোন সমব্যথীর
সামনে ওই যে দেখা যায় তব নিশানা ধ্রুবতারার মত স্থির
চরৈবেতি চরৈবেতি, আছে তাঁর আশীর্বাদ, তিনিই অগতির গতি ॥
অনুরাধা গুপ্তা
ব্যাঙ্গালোর 4/3/2014

মানুষ

সুন্দর এই পৃথিবী , সুন্দর তার পরিবেশ -
মা কলঙ্কিত কেন হয় তার নীল সবুজের মহিমা
প্রাকৃতিক সামঞ্জস্য রক্ষা করে সব পশু পাখি
শুধু মানুষ লেপে চলেছে তার ওপর কালিমা ।

স্রষ্টার এক অপূর্ব সৃষ্টি এই মনুষ্য জাতি -
বুদ্ধি দিয়ে সে একে একে জয় করেছে যত অপরাজেয় শৃঙ্গ
মহাকাশে পাড়ি দিয়েছে, নেমেছে চাঁদের বুকে
কিন্তু হেলায় সে করছে ধ্বংস বনরাজি, কীট পতঙ্গ ।

পাহাড় কেটে সে বানায় বসতি, বড় বড় ইমারত গড়ে
ধরিত্রী অতিষ্ঠ হয়ে জানায় তার আপত্তি , করে প্রতিবাদ
বানে ভেসে যায় গ্রাম , বসতি, বিপর্যয় নামে পৃথিবীর বুকে
তবুও হয়ে চলেছে অন্যায় , অবিচার, হিংসা দ্বেষ বাদানুবাদ ।

এত সুন্দর পৃথিবীতে মানুষ জন্ম নেয় বহুজন্ম তপস্যার ফলে
ঈশ্বরের ও নিজের সুকৃতির সুন্দর ফল এই মানব জাতি-
হে পরমেশ্বর, সামান্য ধৈর্য্য, সুবুদ্ধি ও ভালোবাসা দাও তার মনে-
কভু যেন সে করে না অন্যায়, দিয়ে অপবাদ, তবে হবে তার অবনতি ॥

অনুরাধা গুপ্তা
ব্যাঙ্গালোর 4/3/14

নারী দিবস

ধরিত্রীর লিঙ্গ অবশ্যই স্ত্রী , তা সত্ত্বেও অর্বাচীন পুরুষ -
তুমি একটা দিন মাত্র ধার্য করেছ স্ত্রী জাতির সম্মানে ?
আর বাকি তিনশ চৌষট্টি দিন থাকবে তোমার দখলে ;
একদিন খালি নারী জাতির জন্য, এত বড় অপমান ।

বিধাতা পুরুষ সৃষ্টি করেছেন নারী পুরুষ নির্বিশেষে
কোন খাতায় লেখা আছে এরকম হিসাব হবে -
এক শতাংশও থাকবেনা নারীর , বাকী সব পুরুষের -
ভুলো না কেউ- এই অনিয়ম হিসাবের অবশ্যই হিসাব হবে ।

কতদিন তুমি পারবে তাকে তোমার পায়ের তলায় পিষ্ট করতে ?
কিম্বা ট্রেনে – খালি বাসে নতুবা অন্ধকার গলিতে ?
ভাবছ তুমি বিধাতা পুরুষ তোমাদের দলে বরাবর
হায় হায়, তবে মহিষাসুর মর্দিনীকে কেন দরকার চকিতে !

এখনও সময় আছে, অন্তর থেকে তাদের দিতে শেখ সম্মান ,
স্বীকার করতে কুণ্ঠা কোরো না তাদের সহ্যশক্তির ক্ষমতা
মাতা সে তোমার, সহোদরা, কন্যা ও অর্দ্ধাঙ্গিনী সে
শক্তির উৎস যে সে সঙ্গে ক্ষমা, মায়া ও মমতা ॥

অনুরাধা গুপ্তা
ব্যাঙ্গালোর 8/3/14

Post Navigation

Follow

Get every new post delivered to your Inbox.