anuradha1311

Smile! You’re at the best WordPress.com site ever

মুখ

সুনীতার মহাকাশের গল্প পড়ি কাগজের পাতায়
ছত্রে ছত্রে শিল্পীর অপূর্ব সৃষ্টির কথা বর্ণিত সেথায়
মহাকাশযান থেকে মহাশূন্যে ভেসে বেড়ানোর অভিজ্ঞতা
হে বিধাতা বিজ্ঞানের কি অপূর্ব মহিমা ঢোকেনা মাথায় ।

মানুষ চাঁদে যাচ্ছে , মঙ্গলগ্রহেও মারছে উঁকিঝুঁকি -
হয়ত বা আগামী কয়েক দশক বাদে হলিডে ট্রিপ হবে-
তিন রাত চার দিনের টিকিটের জন্য পড়ে যাবে লাইন
জানিনা চাঁদ ছাড়া অন্য কোন গ্রহেও মানুষ হয়ত যাবে ।

মন ভরে যায়, উঁচু হয় মাথা, ঠাকুর আমরাও তবে জানি
পারি তোমার সঙ্গে পাল্লা দিতে, আত্মম্ভরিতায় ভরে ওঠে বুক;
কিন্তু এত মহিমা, গরিমা সবের সঙ্গে যে পারিনা আপোষ করতে -
অনাহারে, অর্ধনগ্ন মানুষের কথা ভেবে কোথায় লুকাই মুখ ?

অনুরাধা গুপ্ত
কলকাতা ৮/৪/১৩

জলছবি

এই জীবনের জলছবিতে ভেসে ওঠে নানা রং , রঙের মেলা

বিশাল সেই ক্যানভাসের ওপর সরু মোটা তুলির টান -

কিছু টান খুবই সূক্ষ্ম আবার বেশ কিছু মোটা তুলির টানে দৃপ্ত

স্মৃতি যেন হয় সততই সুখের, মনের অতলে হয় আনচান ।

 

টাইম মেশিন যদি পেতাম হাতে , ফিরিয়ে নিতাম সব ভুল ;

হায় করতে যদি পারতাম তবে জীবন হয়তো হ’ত নিলীমায় নীল

কচি কলাপাতা রঙে ঢেকে দিতাম ক্যানভাস, কিছু ঘন সবুজ

তারপরে হলুদের ছোঁয়ায় খুশীর জোয়ার আনন্দ অনাবিল ।

 

এই বড় রঙ্গমঞ্চে উইংসের পাশ দিয়ে প্রবেশ করে কত চরিত্র

কেউবা সেই নাটকে নাট্যকারের হিসেব নিকেশ দেয় উলটে -

কোন চরিত্র খুবই বৈচিত্র্যময়, কত রঙের প্রলেপ তার পরতে, পরতে ;

প্রায়শই মনে হয় কেনই বা বিধাতা দেননি চরিত্রকে পালটে ।

 

বহু দশক বাদে দু বছরের অন্তরঙ্গতার টিকিট নিয়ে প্রবেশ

কিছু কুশীলব  যারা  ছিল ধূলোর আস্তরনে মলিন, ম্রিয়মান

হঠাত কোন কালবৈশাখী মনের গভীরে  উষ্ণতাকে  দেয় খোঁচা

আবার যাবে তারা হারিয়ে , বিদায় নেবে আচমকা পত্রপাঠ ।

 

এগিয়ে যেতে হবে , ছিঁড়ে সব মায়ার জাল , সেই লক্ষ্যে

যেখানে আলোয় আলোকময় করে ব্যাপ্ত সেই আলোর আলো -

কা তব কান্তা , কস্তে পুত্র , হৃদয়ের মাঝে নাড়বে কড়া

দৃপ্ত পায়ে নিয়ে আশার আলো আশ্বাস দিয়ে সকল ভালো ।

অনুরাধা গুপ্ত
কলকাতা ১৩/৪/১৩

পথের শেষ

শীতের বেলা সকালের নরম রোদ্দুরে বসে বসে ভাবি

কতটা সময় খরচ করেছি কাজে , ও কতটা অকাজে -

ভাবি মনে প্রতিটি মুহূর্ত জেন তোমার চিন্তায় হয় ব্যয় -

কিন্তু দিন শেষে এসে দেখি সেই নাম কখন, কোথায় উচ্চারিত হয়

তার হিসেব পারি না মেলাতে ।

 

হায় রে , মায়ার বদ্ধপাশে কি ভীষণ ভাবে পড়েছি জড়িয়ে

তোমার কৃপায় কেন সেই অমৃতের প্যাঁচ থেকে পারি না মুক্ত হতে ,

সব জেনে শুনেও কেন মন হয় চঞ্চল, স্বার্থপর, অহঙ্কারী -

পরমেশ্বর, শক্তি দাও যেন মানুষের কাজে করি সময় উৎসর্গ ।

 

মানুষ মানুষের জন্য , তার প্রতি সহানুভূতি ও ভালবাসা

এ টুকুও কেন করতে পারি না – তোমার চিন্তায় কি মন ব্যস্ত

তবে তার সঙ্গে এই চিন্তা বা অভ্যাস জপধ্যানের মত

করতে হবে অভ্যাস ।  করতে হবে মনকে দৃঢ় , অন্যায় কে

প্রতিরোধ করে এগিয়ে যেতে হবে সেই সাগরপারে

যেখানে অবিশ্রান্ত ঢেউ বাধা হয়ে আটকাবে আমার পথ,

তবুও ধীর পদক্ষেপে, দৃপ্ত ভঙ্গিতে করতে হবে পার

এগিয়ে যেতে হবে সাগরের ওপারে , যেথায় আছে নাকি

সেই অমৃতলোকের ঠিকানা , আলোয় আলোকময় ।

 

অনুরাধা গুপ্তা

কলকাতা  ৭/১২/১২

সহপাঠী

চার দশকের কিছু বেশী দিনের ছাড়াছাড়ি

অবাক লাগে ভেবে, যাদের সাথে ছিল নিত্য যাওয়া আসা

কালের নিয়মে সবাই গেল ধূমকেতুর মত ছড়িয়ে ছিটিয়ে -

তাই এত দিন পরে তাদের মুখ মনে পড়ে ভাসা ভাসা ।

 

ভাসতে ভাসতে কে কোথায় হারিয়ে গিয়েছি অজানা থেকে যায়

একটি দুটি প্রাণ রাখে যোগাযোগ কোন বিধাতার কৃপায়,

হারিয়ে যায় সেই তারুণ্য , সংসারের জাঁতাকলে কপালে পড়ে ভাঁজ -

ডুবুরির মত সাঁতরে খুঁজে পায় সেই মানিক ডুবে সাগরতলায় ।

 

শারীরিক পরিবর্তনের সাথে সাথে মনের বদল ,

এত বছর পরে হঠাৎ ছলকে ওঠে সেই যৌবনের উষ্ণতা -

বন্ধু বা সহপাঠীর প্রতি এক প্রচ্ছন্ন আশকারা ,

ধীরে ধীরে সরিয়ে দেয় জমে থাকা ধুলোর দৈন্যতা ।

 

অদেখা কে ফিরে দেখার জন্য আবার হয় মন চঞ্চল ,

বর্তমানের গুরুগম্ভীর চশমার ফাঁক দিয়ে ঝিলিক মারে সেই মুখ -

হঠাৎ এক দখনে বাতাস ঢুকে পড়ে এই মেঘ থমথমে আকাশে -

আনন্দে নেচে ওঠে মন ফিরে পেয়ে সেই সুখ ।

 

অনুরাধা গুপ্তা

কলকাতা   ১৮/২/১৩

বদল

বার বার করে বদল করে  এখন আমি ক্লান্ত

প্রারব্ধ কর্ম শেষ হলেই নতুন কর্মের সন্ধান

সুচিন্তিত কাজ অথবা ন্যায়জনিত কাজ

সব যদি পূর্বনির্ধারিত , মিছে মায়ার বন্ধন ।

 

দিনের পরে রাত , রাতের পরে দিন

প্রকৃতির এ অমোঘ নিয়মে ঘুরে চলে কালের চাকা

কি করে যে নিস্তার  পাব  এ  জাঁতাকল  থেকে

বিধির বিধান ঠিক করে দেয় কপালের লেখা ।

 

আমি নাকি অবিনশ্বর , লয় ক্ষয় নেই মোর

তবে আমি কেন নশ্বর দেহ মাঝে মুখ লুকাই

পুরুষকার আর ললাটের লিপির মাঝে

জনম জনম চলে এক নিরবিচ্ছিন্ন  লড়াই ।

 

হে বিধাতা , কোটি কোটি বছর ধরে বয়ে চলে

তোমার এই ভাঙ্গাগড়ার খেলা

এই খেলার খেলনা হয়ে বহুরূপীর মত

রং পালটাই , শরীর পালটাই , করি হেলা ফেলা ।

 

যে দিকে তাকাই শুধু একটা রংই চোখে পড়ে

লাল রং – কখনও হালকা কখনও বা অতি গাঢ়

ভোর আকাশে যে লালের খেলা দেখি সে অতি মনোরম -

কিন্তু বেলা বাড়লেই সেই লাল হয় অতি রুঢ় ।

 

সবুজের নানা রকমের বিন্যাস ছেয়ে আছে গাছে গাছে

নরম কার্পেটের মত দূর্বা ঘাসের আস্তরণে ঢাকি

কচি কলাপাতায় ঈষৎ হলুদের ছোঁয়া মন করে রঙিন

বৃষ্টিস্নাত পৃথিবী নিদাঘের পরে স্নিগ্ধ হয় মাটী  মাখি ।

 

হলুদের রং গাঁদা বা চন্দ্রমল্লিকায় হাসায় ধরণী

সবুজ ঘাসের পরে খেলা করে কলকে ফুলের রেণু

আর সাদা রং এর ঝিলিক মনে জাগায় হৃতস্পন্দন

ভাসাই তরণী ফুলের সাজি আর নিয়ে কলাপাতার বেণু ।

 

অনুরাধা গুপ্তা

কলকাতা  ১১/২/১৩

আওয়াজ

সকাল সাড়ে ন’টা ।

আধুনিকতা ও বিজ্ঞানের ধ্বজা উড়িয়ে নিমেষের মধ্যে উধাও ।

সাড়ে নটার মেট্রো ।

পার্ক স্ট্রীটের সিঁড়ি বেয়ে উঠে ছুটছে নারী , পুরুষ ।

সবাই মুহুর্মুহু ঘড়ি দেখছে ও নিজেদের গতি বাড়াচ্ছে

কারো মুখে কথা নেই , এক অখণ্ড নিরবতা বিরাজমান ।

এত লোক অথচ সিঁড়িতে কোন কোলাহল নেই -

অবাক কাণ্ড ! কেউ কাউকে চেনে না – একই শহরে থেকে সবাই অচেনা ।

এই অবিচ্ছিন্ন মৌনতা আরো প্রকট হয় জুতোর আওয়াজে !

সিঁড়িতে আওয়াজ তোলে ঘোড়ার খুড়ের মত খট খট খট খট – মহিলাদের হাই হিল

ঠিক একই সঙ্গে পুরুষদের জুতোর রবার সোলের ঘ্যাসঘ্যাসে আওয়াজ ।

কারো বা একটু ঢিলে চটি জানান দেয় ফট ফট শব্দ -

কান পাতলেই শোনা যায় সেই নিঃশব্দ সিঁড়িতে নানা জুতোর আওয়াজের

শব্দ – সৃষ্টি হয় এক আওয়াজের অর্কেস্ট্রা ।

চৈত্রমাসে গড়িয়াহাটেও ফুটপাতে সৃষ্টি হয় সেলের অর্কেস্ট্রা ।

বিভিন্ন সুরে , ছন্দের বৈচিত্র্যে , গলার গাম্ভীর্যের রকমফেরে সৃষ্টি হয়

এক অদ্ভূত কান ঝালাপালা করা  অর্কেস্ট্রা ।

জলতরঙ্গের মত বিভিন্ন সুরে সৃষ্টি হয় বিভিন্ন রকমের অর্কেস্ট্রা ।

মানুষের সৃষ্টি এই আওয়াজের অর্কেস্ট্রার জন্য দরকার নেই

কোন সঙ্গীত শিক্ষা

পৃথিবীর নিজের অর্কেস্ট্রা যাতে ভাগ নেয় কোকিলের কুহুতান ,

বাতাসের মন্দ মধুর আওয়াজ , কিম্বা , ঝরণার ঝরঝর , বা

শীতের শেষের ঝরা পাতার গান -

তারা সবাই ঢাকা পড়ে যায়

এই যান্ত্রিক অর্কেস্ট্রার দাপটে ।

 

অনুরাধা গুপ্তা

১৩/৪/৯৯

যজ্ঞ

বিরাট এক যজ্ঞ শেষ – এত দিনের প্রতীক্ষা, পরিশ্রম, প্রত্যাশা -
নিমেষে বুঝি বা শেষ হয়ে গেল – হৃদয়ের হৃৎপিণ্ড চলার গতি
“আসার” আশা সহসা পালটে গেল “যাওয়ার” মাঝে
টুনি বালবের আলো নিমজ্জিত হল বা বুঝি হ্যালোজেনের আলোয় ।

কি এক হাহাকার হৃদয় জুড়ে – আনন্দের পরিসমাপ্তি
অতি অল্প সময়ের জন্য দর্শন হল মায়ের
লোকজন ব্যস্ততা – সবাই চলেছে নিজেদের মনের গতিতে
তবুও নেই কেন সোরগোল – খালি মন্ত্রের উচ্চারণ মাইকের মাঝে ।

এত জনতা, তবুও নেই সেই গোলযোগ, হৈচৈ
পুণ্যের সন্ধানে এসেছে বহু পুণ্যঅর্থী- মায়ের চরণে
মায়ের ভজন হৃদয় নিংড়ান সুর ও তালের অনুরণন
অনন্ত জলের ধারা চোখের বাইরে এসে ভেজায় কাপড় ।

দুর্যোগের ঘনঘটা প্রতিনিয়ত চমক লাগায় মনের মন্দিরে -
শান্ত সমাহিত মায়ের মূর্তি জাগিয়ে তোলে আশার বাণী -
ক্ষণেকের তরে সামান্য হলেও শান্তির পারাবারে ডুবে যায় মন
প্রবচন আর সৎসঙ্গ ভজনে মন ডুবে থাকে অনুক্ষণ ।

অনুরাধা গুপ্তা
কোলকাতা
২০/১/১৩

বিচার

মা, তুমি ত’ দয়াময়ী, করুণাময়ী, হৃদয়ে তোমার ভালোবাসার আকর
তবে মা কেমন করে সহ্য কর এই তুমুল বিভেদ বিভাজন ?
এই শীতের রাতে ঘরে হিটার জ্বালিয়ে আরামে নিদ্রা যায় যারা
সারাদিনের ক্লান্তিশেষে ডাণলোপীলোয় শুতে পায় তারা ?

গরম লেপের মুড়িতে ঢেকে আপাদমস্তক স্বাদ পায় তারা তাপের
একের পরে দুয়ের প্রলেপ দিয়ে ঢুকে যায় তারা লেপে ।
আর পরিশ্রম সে তো মা সকলেই করে, বিদ্যা বুদ্ধি নির্বিশেষে -
কিন্তু হালে কেন পানি পায় না গাঁয়ে গঞ্জে কচি বুড়ো অনায়াসে ?

করে না কি তারা পরিশ্রম ? শীতের সকালে কাদার মাঝে ডুবে যায় পা দুটি -
শহরের তরে পৌঁছাতে হবে আলু , সিম, কপি আর মটরশুঁটী ।
গরম ঘরে ধূমায়িত চায়ের টেবিলে আনবে যে রোশনাই-
ময়দা ভাঁজে লুকোনো মটর, দম আলু আর কত ঠিকানা তার নাই ।

যারা করে এই জোগানের কাজ, চালায় ভ্যান রিক্সা সাত সকালে
মাথায় কারো নাই যে টুপি, কিম্বা মাফলার, শীত তারা ঠেকাবে কিসে ?
মা, তুমিই কর বিচার, অন্ন বস্ত্র জোগাও এই অভাগাদের পাতে
বুদ্ধি দাও, শান্তি দাও, পায় যেন তারা উষ্ণতার ছোঁয়া বিছানায় শেষ রাতে ।

অনুরাধা গুপ্তা
কোলকাতা
১১/১/১৩

নির্ভয়

কিসের ভয় ? কাকে ভয় ? কেনই বা ভয় পাব ?
এসেছি ভারতে, নারী হয়ে , সহ্য করতে শুধু দুখ ?
এই দেশে জন্মে বুঝি লজ্জার শেষ নেই -
হে মা ধরনী দ্বিধা কেন আর লজ্জায় ঢাকি মুখ ।

মা, তুমি কি করে হও সর্বংসহা, অসুর দলনী, অভয়দাত্রী ?
আজ নারী তোমার শক্তিতে জেগে উঠুক, জাগুক ধরনী ।
চৌচির হয়ে ফেটে যাক ধরিত্রী, মত্ত সাগরের মত আসুক সুনামী
দেখুক পুরুষ অবলা কারে কয়, প্রাণে জাগুক তার ভয় ।

নারীকে যে করে অবহেলা, অসম্মান, পদদলিত
মা, তোমার আদেশে হোক তার চিত্ত ক্ষত বিক্ষত
মাতৃ জঠরেই হোক সেই ভ্রুণের বিনাশ, ক্ষমতা আছে কি
সেই ভ্রুণের, যুঝতে পারে কি সে তার মায়ের সনে ?

তবে, হে পুরুষ, কোথায় গেল তব পৌরুষ ?
যুগ যুগ ধরে বীর পূজিত হয় দেশে দেশে ?
বাহুবলের শক্তির দ্বারা নিপীড়িত হয় যত অন্যায় অবিচার
হায় ! কি করুণ সমাপন, তব বীর্যের , তব আত্মতুষ্টির ?

-অনুরাধা গুপ্তা
২/১/১৩

ফিশ ফ্রাই

নীল আকাশের রং তখন বুঝি কালোই থাকে
পাখীদের কলকাকলী তখন ও শুরু হয় না
দ্রুতপায়ে গায়ে গামছাটা জড়িয়ে নেয় খাঁদু,
নাঃ , হাড়কাঁপানো শীত এই কানিতে শানায় না ।

দূর থেকে একে একে ডিঙিগুলি আসে
হৈ হৈ করে লাফিয়ে নামে সব মাল্লার দল ,
ঘুমন্ত পৃথিবীর একটি কোণে হঠাৎ জেগে ওঠে
কোলাহল, গুঞ্জন – তোলপাড় লেগে যায় ।

দেখতে দেখতে আকাশটা হয়ে ওঠে লালে লাল ,
তার চেয়ে বেশী ঝিলিক দেয় জালে ধরা মাছগুলি
রূপালী, ছাই ছাই, মেঘের রংএর মত
বিদ্যুৎ খেলে যায় সব চোখে মুখে ।

ছুটে যায় খাঁদু, উদ্ভ্রান্ত চোখে তাকায় আশে পাশে
আড়তদারদের মাথায় তখন অঙ্কের জোয়ার -
আজ কি বিয়ের লগন ? কিম্বা অন্য কোন পরব ?
কত বেশী লাভ ? কত দামে ছাড়া যায় ?

কি চাই, বাবুরা ? সবই জ্যান্ত, এখন ও লাফায়
কেমন করে কাটতে হবে শুধু বলেই খালাস -
পৌঁছে দেবে বাড়ীতে খাঁদু – যার যেমন খুশী
বড় বড় পেটি, গাদা , কিম্বা ফ্রাই এর ফিলে ?

ঠাণ্ডায় হাতগুলি জমে যায়, কেঁপে ওঠে বুক
কাঁপুনি ছড়িয়ে পড়ে ঠাণ্ডা শরীরে
একটু যদি হাত দুটো সেঁকত খাঁদু
হয়ত আরো মিহি হ’ত হাতের জাদু !

সারা গায়ে রূপোলী আঁশের ছোঁয়া
রক্তাক্ত জামা ও গায়ের গামছাখানি
এক ভাঁড় চা দিয়ে যায় দোকানি -
আঃ , রোদে বসে আরাম করে খায় খাঁদু ।

জুড়িয়ে যায় শরীর – ক্লান্তির হয় শেষ
রোমে রোমে ছড়িয়ে পড়ে অসীম উষ্ণতা
ধীরে ধীরে ভাবে খাঁদু – ফ্রাইগুলি খাবার মজা
বাবুদের শরীরে কি দিতে পারে এই প্রসন্নতা ?

অনুরাধা গুপ্তা
রূপনারায়নপুর
১৯৯৭ সালে কোন দুপুরে

Post Navigation

Follow

Get every new post delivered to your Inbox.